যেমন দেখেছি অধ্যক্ষ মহোদয়কে

১৯৯৬ সালের ১৯ আগস্ট। ফালাহিয়ায় শিক্ষক হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে লিখিত ও মৌখিক সাক্ষাৎকার দিতে যাই। সেদিনই অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.)-এর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ।

মৌখিক পরীক্ষায় তিনি আমাকে একটি মূল কিতাব এর মাঝখান খুলে পড়তে বললেন। এরপর অনুবাদ করতে বললেন। অনুবাদ শেষ হলে তিনি বললেন, ‘এবার অর্থটি বিশুদ্ধ বাংলায় প্রকাশ করুন।’ আমি যথাসাধ্য তা করার চেষ্টা করলাম। আমার অনুবাদে তিনি সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর স্বভাবসুলভ ভাঙা অথচ আন্তরিক কণ্ঠে বললেন, ‘মারহাবা।’ তাঁর সেই একটি শব্দেই আমার সমস্ত সংকোচ দূর হয়ে গেল। তাঁর কিতাবি দক্ষতা, গভীর পর্যবেক্ষণ এবং উৎসাহব্যঞ্জক আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছিল। এভাবেই তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়।

পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট যখন ক্লাসে যোগদান করি, তখনও তাঁর আন্তরিকতা আমাকে অভিভূত করে। অফিসে নতুন একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা করেন। তাঁর আচরণে অহংকারের লেশমাত্র ছিল না; ছিল না কোনো কৃত্রিমতা বা দূরত্ব। নতুন মানুষকে আপন করে নেওয়ার এক অসাধারণ ক্ষমতা তাঁর ছিল।

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও বিচক্ষণ। পুরো প্রতিষ্ঠান যেন তাঁর নখদর্পণে ছিল। কোথাও কোনো ঘাটতি বা সমস্যা দেখা দিলে, সেখানেই তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত হতো। পাঠদান, অফিস পরিচালনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী তদারকি কিংবা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক শৃঙ্খলা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সমানভাবে সক্রিয় ও সচেতন ছিলেন। তাঁর এই নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বই ফালাহিয়ার প্রশাসনিক কাঠামোকে সুসংহত ও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।

অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.) শিশুদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল ও দরদী। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিশুশিক্ষার ভিত্তি যত মজবুত হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ততই সমৃদ্ধ হবে। তাই শিশুদের কীভাবে পাঠদান করতে হবে, কীভাবে তাদের মনস্তত্ত্ব বুঝে শিক্ষা দিতে হবে—এসব বিষয়ে তিনি শিক্ষকদের অত্যন্ত সুন্দর ও গঠনমূলক পরামর্শ দিতেন। তাঁর সংশোধন ছিল আন্তরিক, প্রজ্ঞাপূর্ণ এবং শিক্ষকদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক।

প্রাচীন ধারার আলেম হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর ছিল অসাধারণ আগ্রহ। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, যুগের প্রয়োজন মেটাতে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি গণিত, বিজ্ঞান, সাধারণ জ্ঞান এবং চিত্রাঙ্কনের মতো বিষয়েও শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা জরুরি। এ উপলব্ধি থেকেই তিনি এসব বিষয় সিলেবাসে সংযোজন ও গুরুত্ব প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত কর্মঠ ও পরিশ্রমী একজন মানুষ। ১৯৯৭ সালের মার্চ মাসের একটি ঘটনা আজও আমার স্মৃতিতে অম্লান। একদিন তাঁকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের খতিব সাহেবকে একটি অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। দাওয়াত শেষে ফেরার পথে উদয়ন এক্সপ্রেসে একটি আসন খালি দেখে আমি তাঁর সঙ্গে একই আসনে বসে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। তখন তিনি হাসিমুখে বললেন, “যুবক মানুষ, এত তাড়াতাড়ি দুর্বল হলে কীভাবে হবে? আসুন, চট্টগ্রাম সম্পর্কে আপনার কাছ থেকে কিছু জানি।”

এরপর পুরো পথজুড়ে তিনি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ে আলোচনা করলেন। সারা বাংলাদেশের ভূগোল, জনপদ ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল বিস্ময়কর। এমনকি মানচিত্র দেখে বিভিন্ন সড়কের গতিপথ, মোড়, বাঁক এবং ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কেও তিনি সম্যক অবগত ছিলেন। শিক্ষাসফর বা ভ্রমণের পরিকল্পনায় তাঁর মতামত প্রায় সব সময়ই বাস্তবসম্মত ও নির্ভুল প্রমাণিত হতো। তাঁর এই বিস্তৃত জ্ঞান, পর্যবেক্ষণশক্তি এবং স্মৃতিশক্তি আমাদের সকলকেই মুগ্ধ করত।

অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.) সামাজিকতা ও মেহমানদারির ক্ষেত্রে ছিলেন সত্যিই অতুলনীয়। তাঁর তালিবে-খিদমত (খেদমতকারী) হিসেবে থাকার সুবাদে তাঁর এ গুণগুলো খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনের হক আদায়ের ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা, খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনকে তিনি ইবাদতের অংশ মনে করতেন। তাঁর সদালাপ, আন্তরিক ব্যবহার এবং অমায়িক আচরণ ছিল ব্যক্তিত্বের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

আমার কাকা হুজুরের একজন বিয়াই একবার তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, “এমন বিয়াই আমি আর দেখিনি, আর কোনো দিন পাব বলেও মনে হয় না।” এই একটি মন্তব্যই তাঁর চরিত্রের উজ্জ্বল দিকগুলোর অনেকটাই তুলে ধরে।

প্রশাসনিক দায়িত্বে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি কিতাব পাঠদানে কখনো অবহেলা করতেন না। বিশেষ করে কামিল শ্রেণিতে মুসলিম শরীফ অত্যন্ত দক্ষতা, সাবলীলতা ও গবেষণামূলক পদ্ধতিতে পাঠদান করতেন। কিতাবি ইলমে তাঁর গভীর দখল এবং পাঠদানের স্বকীয় পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁকে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছিল।

সর্বোপরি, তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই শিক্ষকদের শিক্ষক—একজন দূরদর্শী শিক্ষাবিদ, দক্ষ সংগঠক, আন্তরিক অভিভাবক, নিরহংকার, সাদাসিধে এবং কর্মনিষ্ঠ মানুষ। তাঁর ইন্তিকালে জাতি হারিয়েছে একজন দক্ষ মানুষ গড়ার কারিগরকে। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমীন।

মাওলানা আবুল হাশেম (রাহিঃ):  একটি কর্মমুখর জীবনের অবসান

মাওলানা আবুল হাশেম—একটি পরিচিত নাম। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই; চলে গেছেন পরপারে। ফিরবেন না আর কোনোদিন। কিন্তু রেখে গেছেন এমন কিছু স্মৃতি, যা আজও আমাদের আলোকিত করে।

১৯৮৫ সাল। তখন আমি ফালাহিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। কোনো এক বিকেলে আমার আবাসিক কক্ষে মাওলানা এ.জি.এম. বদরুদ্দোজ্জার সঙ্গে এলেন মাওলানা আবুল হাশেম (রাহিঃ)। প্রথম সাক্ষাতেই বুঝতে পারলাম, গুণ ও মানে এক উন্নত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আমি কথা বলছি। যা ধারণা করেছিলাম, বাস্তব জীবনেও তাই দেখলাম।

মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেম, সুদক্ষ প্রশাসক এবং প্রতিষ্ঠান গড়ার এক অনন্য কারিগর। তাঁর মধ্যে ছিল না কোনো অহংকারবোধ, ছিল না কোনো প্রদর্শনের ইচ্ছা। আত্মপ্রচারে বিমুখ এ মানুষটি কেবল প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ও কল্যাণের কথাই ভাবতেন।

তিনি আসার পরই ফালাহিয়া মাদ্রাসা দাখিল থেকে কামিল শ্রেণি পর্যন্ত মঞ্জুরি লাভ করে। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, তিনি প্রতিষ্ঠান গড়ার কত বড় কারিগর ছিলেন। আত্মপ্রচারে অনাগ্রহী হওয়ার কারণে তাঁর মহান ব্যক্তিত্বের প্রচার ও প্রকাশ ছিল তুলনামূলক কম।

কোনো ক্লাসের ঘণ্টা গ্যাপ যাওয়া তাঁর কাছে সহনীয় ছিল না। তাই গ্যাপ ঘণ্টায় সুযোগ পেলেই তিনি শিশু শ্রেণি থেকে কামিল শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাস নিতেন। মাদ্রাসা পরিচালনায় তিনি নতুন কিছু নিয়ম ও পদ্ধতি চালু করেন, যা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করে তোলে।

ব্যক্তিগত জীবনে মাওলানা আবুল হাশেম (রাহিঃ) ছিলেন আলাপপ্রিয়, পরিশ্রমী, সংস্কৃতিমনা, সফরপ্রেমী এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন। সমমনাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, হাস্যরস সৃষ্টি এবং আনন্দ উপভোগ করে তৃপ্তি লাভ করা ছিল তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রতি তাঁর ছিল দারুণ আগ্রহ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেই সমমনা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হাস্যরসের মাধ্যমে অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন।

দিনের বেলায় তিনি ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক তথা শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। ফলে প্রায়ই তাঁকে রাতের বেলায় অফিস করতে হতো। অনেক সময় রাত দশটা-এগারোটা পর্যন্ত অফিস করতেন। রাতের কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে আমি দারুর রাজা এতিমখানায় থাকতাম বলে সেখানে এসে কিছুক্ষণ বসতেন। এরপর দেশের রাজনৈতিক অবস্থার সর্বশেষ খোঁজখবর নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে তবেই বাসায় ফিরতেন।

মাদ্রাসার শিক্ষা সফরে তাঁর সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, টেকনাফ, কুমিল্লাসহ দেশের অনেক স্থানে সফর করার সুযোগ হয়েছে। জীবনে বহু শিক্ষা সফর করেছি, কিন্তু তাঁর সঙ্গে শিক্ষা সফরের বৈশিষ্ট্য আমার কাছে ছিল কিছুটা ভিন্ন। তিনি প্রধানত দুটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। প্রথমত, ছাত্ররা যেন শিক্ষা সফর থেকে সবসময় নতুন কিছু শিখতে পারে। দ্বিতীয়ত, তারা যেন আনন্দমুখর পরিবেশে সময় কাটাতে পারে।

ফালাহিয়া মাদ্রাসার ইতিহাসে সর্বপ্রথম শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত হয়েছিল কক্সবাজার-টেকনাফে। সে সফরে আমিও অংশগ্রহণ করেছিলাম। চট্টগ্রাম সিটি গেটের আগে বা পরে কোথাও আমরা ফজরের নামাজ আদায় করি। ফজরের নামাজের পর মাওলানা আবুল হাশেম নিজের সিটে না বসে বাসের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রাস্তার দুই পাশের পাহাড়, নদী, শহর, হাট-বাজারসহ উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো সম্পর্কে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদের দেখাতে লাগলেন। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি যেন তাঁকে স্পর্শই করতে পারেনি। এভাবেই আমরা কক্সবাজারে পৌঁছলাম।

তখনকার সময়ে শিক্ষা সফরে গিয়ে নিজেরাই রান্না করে খাওয়ার নিয়ম ছিল। আমি ছিলাম সফরের ব্যবস্থাপক। লক্ষ্য করলাম, বাস থেকে নেমেই মাওলানা আবুল হাশেম আমাকে সঙ্গে নিয়ে রান্নার স্থান নির্ধারণ, মিঠাপানির ব্যবস্থা, অস্থায়ী বাথরুম তৈরির ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় টুকিটাকি বাজার করাসহ মৌলিক সব কাজে অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠলেন।

সৈকত ভ্রমণ ও আনন্দ উপভোগ শেষে সবাই যখন খেতে বসলেন, তখনও তিনি প্রত্যক্ষভাবে সবকিছু তদারকি করতে লাগলেন। কোথাও তাঁর মধ্যে সামান্য ক্লান্তি বা অবসাদের ছাপও দেখা যায়নি। কক্সবাজারের হাশেমিয়া মাদ্রাসায় আমরা রাত্রিযাপন করি। সেখানেও দেখলাম, তিনি প্রত্যেক ছাত্র ও শিক্ষকের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সবাই ঠিকমতো থাকার ও শোয়ার ব্যবস্থা পেয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।

তখন আমি উপলব্ধি করলাম, তিনি সত্যিই একজন অসাধারণ দায়িত্বশীল মানুষ।

এ শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন শিক্ষক সর্বজনাব মাওলানা এ.জি.এম. বদরুদ্দোজা, মাওলানা আতিকুল্লাহ, জয়নাল আবেদীন, আবু আহমাদ এবং আবদুল গোফফারানসহ আরও অনেকে। আমার জানামতে, সেটি ছিল অত্যন্ত আনন্দমুখর, তৃপ্তিদায়ক এবং স্মরণীয় একটি শিক্ষা সফর।

একবার আমরা দুজনে পরামর্শ করলাম, জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে যাব। সে মোতাবেক মাওলানা আবুল হাশেম (রাহিঃ) তৎকালীন সংসদ সদস্য মাওলানা আবদুস সুবহানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের জন্য দুটি অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করলেন। আমরা দুজনে ঢাকায় মাওলানা আবদুস সুবহান এমপির হোস্টেলে গেলাম টিকিট সংগ্রহ করার জন্য।

পাবনা পুষ্পপাড়া আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতাকালীন সময় থেকেই মাওলানা আবদুস সুবহান সাহেবের সঙ্গে মাওলানা আবুল হাশেম (রাহিঃ)’র গভীর পরিচয় ও আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘদিন পর তাঁদের সাক্ষাৎ হওয়ায় মাওলানা আবদুস সুবহান সাহেব যেভাবে মাওলানা আবুল হাশেম সাহেবকে ভক্তি, শ্রদ্ধা, সম্মান ও আন্তরিক আতিথেয়তার সঙ্গে গ্রহণ করলেন, তা দেখে আমি অভিভূত হলাম। তখন উপলব্ধি করলাম, মাওলানা আবুল হাশেম সত্যিই একজন উচ্চমাপের ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

দুটি টিকিট নিয়ে আমরা জাতীয় সংসদের একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন উপভোগ করলাম।

এভাবেই মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা কামাল উদ্দিন জাফরী, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা শাহজাহানসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামার নিকট মাওলানা আবুল হাশেম (রাহিঃ)’র বিশেষ গুরুত্ব ও উচ্চ মর্যাদা ছিল, যা আমি নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছি।

পরিশেষে মহান রব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা করি—হে আল্লাহ! আপনি মাওলানা আবুল হাশেমের জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন। তাঁর কবরের আজাব মাফ করে দিয়ে তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগিচায় পরিণত করুন। তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। তাঁর পরিবার-পরিজনসহ আমাদের সকলকে তাঁর অনুপস্থিতির ব্যথা-বেদনা সহ্য করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

স্মৃতিতে একজন আদর্শ শিক্ষাগুরু

যখন মাতৃকোড় ছেড়ে প্রথমবারের মতো ঘরের বাইরে পা রাখি, তখন বাড়ির প্রতি, শৈশব-কৈশোরের বন্ধুদের প্রতি, চেনাজানা মাঠ-ঘাটের প্রতি এবং সর্বোপরি মায়ের প্রতি এক অদ্ভুত টান অনুভব করতাম। স্মৃতির পর্দায় বারবার ভেসে উঠত আপনজনদের মুখ। মনে হতো, তারা সবাই আপন আপন আনন্দে দিন কাটাচ্ছে, আর আমি বাড়ির আঙিনা থেকে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরে এক নতুন জীবনের পথে যাত্রা শুরু করেছি। সেই যাত্রার গন্তব্য ছিল ফেনীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া।

আমি সেখানে ভর্তি হতে যাওয়ার মাত্র দেড় যুগ আগে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হলেও অল্প সময়েই শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও সুনামের জন্য সুপরিচিত হয়ে ওঠে। সেই সুনামেই আকৃষ্ট হয়ে আমার অভিভাবক আমাকে সেখানে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রার পেছনে যাঁর অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তিনি ছিলেন অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাসেম (রহ.)। শহরের জীবন ছেড়ে নিজ জন্মভূমির নিকটবর্তী এই প্রতিষ্ঠানকে আদর্শ শিক্ষাঙ্গনে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় নিয়েই তিনি এখানে যোগদান করেছিলেন। তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, গভীর পাণ্ডিত্যসম্পন্ন শিক্ষাবিদ এবং দক্ষ প্রশাসক। জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার অপূর্ব সমন্বয়ে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তাঁর ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা যেমন শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করত, তেমনি তাঁর স্নেহ ও আন্তরিকতা তাঁদের কাছে তাঁকে আপন করে তুলেছিল।

কিছুদিন আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খুঁজতে গিয়ে আমার দাখিল পরীক্ষার প্রশংসাপত্রটি হাতে আসে। প্রশংসাপত্রে তাঁর স্বাক্ষর দেখে মুহূর্তেই বহুদিনের বিস্মৃত স্মৃতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।

১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমার এক ভগ্নিপতির সঙ্গে প্রথমবারের মতো আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়ায় যাই। ততদিনে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে এবং নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠদানও শুরু হয়ে গেছে। যদিও সকালে পৌঁছেছিলাম, অধ্যক্ষ মহোদয়ের বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাই দুপুর সাড়ে বারোটার পর।

অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের সময় আমি ছিলাম অত্যন্ত নার্ভাস। গ্রাম থেকে আসা এক সাধারণ ছাত্র হিসেবে মনে হচ্ছিল, এত ছাত্রের ভিড়ে আদৌ ভর্তি হতে পারব কি না। কিন্তু তিনি খুব দ্রুতই আমার মানসিক অবস্থা উপলব্ধি করেন। স্নেহভরা কণ্ঠে আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং সহজ কয়েকটি প্রশ্ন করেন। যেমন—“আমার লাল জামা আছে”—বাক্যটি আরবিতে অনুবাদ করতে বলেন।

এরপর ইংরেজি বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য তিনি মাহমুদুল হক স্যারকে অফিস থেকে ডেকে পাঠান। তিনি চাইলে নিজেই ইংরেজিতে প্রশ্ন করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে বিষয়-সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে সেই দায়িত্ব অর্পণ করেন। এই ছোট্ট ঘটনাটিই আমাকে তাঁর ব্যক্তিত্বের এক অনন্য দিকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিনি পেশাগত সততা রক্ষা করেছেন, একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের প্রতি যথাযথ সম্মানও প্রদর্শন করেছেন। একজন প্রশাসক হিসেবে এটি ছিল তাঁর উন্নত নৈতিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক।

মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা শেষে তিনি আমার অভিভাবককে ডেকে আমার পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চান। এরপর স্নেহভরে বলেন, “ও একটু ভয় পাচ্ছে। সমস্যা নেই, আমি অফিসকে বলে দিচ্ছি, ওকে ভর্তি করে নেবে।”

তাঁর এই কথাগুলো শুনে যেন বুকের ভেতর জমে থাকা সব দুশ্চিন্তা মুহূর্তেই দূর হয়ে গেল। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম এবং মনে মনে হুজুরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করলাম।

ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি জানতে চাইলেন, আমি কোথায় থাকব। ভগ্নিপতি জানালেন, পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পরে তাঁকে জানানো হলে যে আমি হোস্টেলে থাকব, তিনি হোস্টেল সুপারকে ডেকে আল-রাজি হলে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের নিকটবর্তী একটি আসনের ব্যবস্থা করে দিতে অনুরোধ করেন। নতুন পরিবেশে একজন নবাগত শিক্ষার্থীর জন্য এটি ছিল একজন অভিভাবকসুলভ শিক্ষকের আন্তরিকতার উজ্জ্বল প্রকাশ।

পরবর্তী সময়ে যখনই তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে, তিনি আন্তরিকভাবে খোঁজ নিয়েছেন—কেমন আছি, পড়াশোনা কেমন চলছে, ফলাফল কেমন করছি। প্রথম দিন যে স্নেহ ও মমতা পেয়েছিলাম, তা শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তাঁর ছাত্র হতে পারা এবং আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়ার একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত হওয়া আজও আমার জীবনের অন্যতম গর্ব।

ফালাহিয়া থেকে চলে আসার কিছুদিন পর তিনি ইহজগতের যাত্রা শেষ করেন। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কবুল করুন।

আজ বহু বছর পর ফিরে তাকিয়ে উপলব্ধি করি, তিনি কেবল একজন দক্ষ প্রশাসক কিংবা বিদ্বান আলেম ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত শিক্ষক। তিনি নিজেই আমার ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছিলেন। সম্ভবত সে কারণেই পরবর্তী সময়েও আমার পড়াশোনার অগ্রগতি নিয়মিত জানতে চাইতেন। একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়ে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়—তিনি বোধ হয় এমনটি মনে করতেন না। তাঁর কাছে একজন শিক্ষকের দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীর অগ্রগতি, বিকাশ ও সাফল্যের প্রতি সমানভাবে দৃষ্টি রাখা। আমার প্রতি তাঁর আন্তরিক অনুসন্ধান ছিল সেই উন্নত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষকসুলভ মমত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।

আজও তাঁর কথা স্মরণ করলে গভীর শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। একজন শিক্ষক কীভাবে জ্ঞান, মানবিকতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে একজন শিক্ষার্থীর জীবনে স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, মাওলানা আবুল হাসেম (রহ.) ছিলেন তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমার জীবনের স্মৃতিপটে তিনি তাই কেবল একজন অধ্যক্ষ নন, একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবেই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শ



সংবাদ মাধ্যমঃ ফেনীর সময় || শহর প্রতিনিধি

ঐতিহ্যবাহী আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও ফেনী মডেল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রবিবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মডেল মাদরাসা সংলগ্ন আবু সুফিয়ান জামে মসজিদে ফাউন্ডেশন সভাপতি নাসির উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন ফেনী মডেল মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউছুপ, আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক মানিক, দাগনভূঞা জমিলা খাতুন আলিম মাদরাসার বাংলা প্রভাষক মোঃ জামাল উদ্দিন ও মরহুমের বড় ছেলে এডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান।

দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন ফেনী মডেল দাখিল মাদরাসার সুপার ও ফাউন্ডেশনের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন। এসময় বায়তুল হক জামে মসজিদের সভাপতি শওকত ইমরান, ফেনী ৩ এর পাতায় দেখুন

অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল মডেল মাদরাসার সহ-সুপার আজিজুল হক সহ শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, “অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শ। মাওলানা আবুল হাশেম দ্বীনের খেদমতে কাজ করে গেছেন। অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। অসংখ্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের খেদমতে ছিলেন। তিনি ছিলেন মানুষ তৈরির কারিগর। আজ সারা পৃথিবীতে তার অগণিত ছাত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠিত। তিনি আমাদের দিয়ে গিয়েছেন। তিনি তার যে কর্ম করে গেছেন তার মাধ্যমে সবার মাঝে বেঁচে থাকবেন।”

অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া


সংবাদ মাধ্যমঃ দৈনিক স্টারলাইন || শহর প্রতিনিধি

আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ফালাহিয়া মাদরাসা অডিটোরিয়ামে মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফারুক আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদরাসার গভর্নিং বডি সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দারুল ইসলাম সোসাইটির চেয়ারম্যান ও মাদরাসার ফকিহ মুফতি আব্দুল হান্নান, মাদরাসার গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক আবু ইউছুপ, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক ও সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক মানিক।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, মরহুমের ছেলে এডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান, ফেনী মডেল দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ও রিবাতুল মিল্লাত মাদরাসার চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, “প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য যেটা প্রয়োজন সেটা হলো তাকে নির্লোভ হতে হবে। এটা না হলে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মরহুম আবুল হাশেম সাহেবের কাছে এ গুনটা ছিল। দুনিয়ার প্রতি তার কোন লোভ ছিল না। এ জন্য তার দ্বারা প্রতিষ্ঠান করা সম্ভব হয়েছে। উনি ছিলেন মানুষ তৈরি করার কারিগর। উনি মানুষ তৈরি করেছেন।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, “অধ্যক্ষ আবুল হাশেম সাহেব একটি জীবন ও একটি ইতিহাস। তিনি এত জ্ঞানী ছিলেন যে তার সাথে যারা ছিল তারাও সহজে বুঝতো না। তিনি সাদাসিধে জীবন-যাপন করতেন। আবুল হাশেমের মধ্যে কোন লোভ ছিলো না, তিনি ছিলেন নির্লোভ। তিনি ছিলেন নিরহংকারী, পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল। তিনি দ্বীনের জন্য খেদমত করে গেছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন দ্বীনের দায়ী ছিলেন।”

অধ্যাপক আবু ইউছুপ বলেন, “অধ্যক্ষ আবুল হাশেম আদর্শ মানুষ ও জাতি তৈরির কারিগর ছিলেন। তিনি আদর্শ শিক্ষক ছিলেন না শুধু, তিনি আদর্শ মানুষও ছিলেন। তিনি অতি জ্ঞানী ছিলেন। এত জ্ঞান থাকার পরও তিনি ছিলেন সাধারণ। তিনি কখনো অহংকার করতেন না। তিনি সাদাসিধে জীবন-যাপন করতেন। দ্বীনি আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার অনন্য অবদানের জন্য তাকে আমরা আজীবন স্মরণে রাখবো।”

মুফতি ফারুক আহমেদ বলেন, “মাওলানা আবুল হাশেম সাহেবের সাথে ১০ বছর কাছাকাছি থেকে উনাকে অনুসরণ করেছি ও দেখেছি। এ ১০ বছরে উনার সাথে কখনো মনমালিন্য হয়নি। আবুল হাশেম সাহেব ছিলেন আদর্শ শিক্ষক। আবুল হাশেম সাহেব ছিলেন নির্মোহ শিক্ষক। তিনি ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছেন। তারওপরও তার কোন টাকা ছিলো না। টাকার প্রতি তার কোন লোভ ছিল না। তিনি অসুস্থ অবস্থায়ও ছাত্রদের খোঁজ নিতে চলে গেছেন এমনও আছে। তিনি ছাত্রদের ছাড়া কিছু বুঝতেন না। আবুল হাশেম সাহেবের যে অনুকরণীয় আদর্শ তা আমাদেরও মেনে চলতে হবে।”

অধ্যক্ষ মাও. আবুল হাশেমের মৃত্যুবার্ষীকিতে স্মরণসভা ও দোয়া ‘অধ্যক্ষ আবুল হাশেম ছিলেন মানুষ তৈরির কারিগর’


সংবাদ মাধ্যমঃ বাংলার দিগন্ত || জাহিদ হাসান চৌধুরী; ফেনী জেলা প্রতিনিধি

আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ফালাহিয়া মাদরাসা অডিটোরিয়ামে মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদরাসার গভর্নিং বডি সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দারুল ইসলাম সোসাইটির চেয়ারম্যান ও মাদরাসার ফকিহ মুফতি আব্দুল হান্নান,মাদরাসার গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক আবু ইউছুপ,উপাধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক ও সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক মানিক।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মরহুমের ছেলে এডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান, ফেনী মডেল দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ও রিবাতুল মিল্লাত মাদরাসার চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন,“প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য যেটা প্রয়োজন সেটা হলো তাকে নির্লোভ হতে হবে। এটা না হলে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়৷ মরহুম আবুল হাশেম সাহেবের কাছে এ গুনটা ছিল। দুনিয়ার প্রতি তার কোন লোভ ছিল না। এ জন্য তার দ্বারা প্রতিষ্ঠান করা সম্ভব হয়েছে। উক্ষনি ছিলেন মানুষ তৈরি করার কারিগর। উনি মানুষ তৈরি করেছেন।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন,“ অধ্যক্ষ আবুল হাশেম সাহেব একটি জীবন ও একটি ইতিহাস। তিনি এত জ্ঞাণী ছিলেন যে তার সাথে যারা ছিল তারাও সহযে বুঝাতো না। তিনি সাধাসিধে জীবন-যাপন করতেন। আবুল হাশেমের মধ্যে কোন লোভ ছিলো না,তিনি ছিলেন নির্লোভ। তিনি ছিলেন নিরহংকারী,পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল। তিনি দ্বীনের জন্য খেদমত করে গেছেন।শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন দ্বীনের দায়ী ছিলেন।”

অধ্যাপক আবু ইউছুপ বলেন,“অধ্যক্ষ হাবুল হাশেম আদর্শ মানুষ ও জাতি তৈরির কারিগর ছিলেন৷ তিনি আদর্শ শিক্ষক ছিলেন না শুধু, তিনি আদর্শ মানুষও ছিলেন। তিনি অতি জ্ঞাণী ছিলেন। এত জ্ঞান থাকার পরও তিনি ছিলেন সাধারণ। তিনি কখনো অহংকার করতেন না। তিনি সাদাসিধে জীবন-যাপন করতেন। দ্বীনি আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার অনন্য অবদানের জন্য তাকে আমরা আজীবন স্মরণে রাখবো।”

মুফতি ফারুক আহমেদ বলেন,“মাওলানা আবুল হাশেম সাহেবের সাথে দশ বছর কাছাকাছি থেকে উনাকে অনুসরণ করেছি ও দেখেছি। এ দশ বছরে উনার সাথে কখনো মনমালিন্য হয়নি। আবুল হাশেম সাহেব ছিলেন আদর্শ শিক্ষক। আবুল হাশেম সাহেব ছিলেন নির্মোহ শিক্ষক। তিনি ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছেন। তারওরও তার কোন টাকা ছিলো না। টাকার প্রতি তার কোন লোভ ছিল না। তিনি অসুস্থ অবস্থাও ছাত্রদের খোঁজ নিতে চলে গেছেন এমনও আছে। তিনি ছাত্রদের ছাড়ূ কিছু বুঝতেন না। আবুল হাশেম সাহেবের যে অনুকরণীয় আদর্শ তা আমাদেরও মেনে চলতে হবে।”

মূল সংবাদঃ https://dailybanglardiganto.com/2026/06/15/

ফেনী ফালাহিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সংবাদ মাধ্যমঃ তালাশ প্রতিদিন

ফেনী ফালাহিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহর প্রতিনিধি: আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ফালাহিয়া মাদরাসা অডিটোরিয়ামে মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদরাসার গভর্নিং বডি সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দারুল ইসলাম সোসাইটির চেয়ারম্যান ও মাদরাসার ফকিহ মুফতি আব্দুল হান্নান,মাদরাসার গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক আবু ইউছুপ, সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক মানিক। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন,রিবাতুল মিল্লাত মাদরাসার চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল ইসলাম

ফালাহিয়া মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত


সংবাদ মাধ্যমঃ মতপ্রকাশ || জাহিদ হাসান চৌধুরী, ফেনী জেলা প্রতিনিধি

আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফালাহিয়া মাদরাসা অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফারুক আহমেদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দারুল ইসলাম সোসাইটির চেয়ারম্যান ও মাদরাসার ফকিহ মুফতি আব্দুল হান্নান, গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক আবু ইউছুফ, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক এবং সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক মানিক।

এছাড়া বক্তব্য দেন মরহুমের ছেলে অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান, ফেনী মডেল দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা দেলোয়ার হোসেন এবং রিবাতুল মিল্লাত মাদরাসার চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে নির্লোভ ও আত্মনিবেদিত হতে হয়। মরহুম মাওলানা আবুল হাশেমের মধ্যে সেই গুণ ছিল। তিনি দুনিয়াবিমুখ, সাদাসিধে ও আদর্শবান মানুষ ছিলেন। এ কারণেই তিনি একটি শক্তিশালী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই মানুষ গড়ার কারিগর।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, “মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন একটি ইতিহাস ও একটি আদর্শের নাম। তিনি অসাধারণ জ্ঞানী, নিরহংকারী, ধৈর্যশীল ও পরিশ্রমী ব্যক্তি ছিলেন। দ্বীনের খেদমত এবং শিক্ষা বিস্তারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর জীবনাদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়।”

অধ্যাপক আবু ইউছুফ বলেন, “মাওলানা আবুল হাশেম আদর্শ মানুষ ও আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর ছিলেন। অসাধারণ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ ও বিনয়ী। দ্বীনি আন্দোলন ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি ফারুক আহমেদ বলেন, “প্রায় এক দশক তাঁর সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁকে একজন নিষ্ঠাবান, নির্মোহ ও আদর্শ শিক্ষক হিসেবে দেখেছি। তিনি প্রায় ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ছাত্রদের কল্যাণ ও শিক্ষার উন্নয়ন নিয়েই চিন্তা করেছেন। তাঁর আদর্শ আমাদের জীবনে ধারণ করতে হবে।”

স্মরণসভা শেষে মরহুম মাওলানা আবুল হাশেমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মূল সংবাদঃ dailymotprokash.com/ফালাহিয়া-মাদরাসার-সাবেক/

অধ্যক্ষ আবুল হাশেমের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া


সংবাদ মাধ্যমঃ নয়া দিগন্ত || শাহাদাত হোসাইন, ফেনী অফিস

ফেনীর আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও ফেনী মডেল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার দুপুরে আবু সুফিয়ান জামে মসজিদে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের সভাপতি নাসির উদ্দিন সরকার।

স্মরণসভায় অতিথি ছিলেন ফেনী মডেল মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউছুপ, আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর ছিদ্দিক মানিক, দাগনভূঞা জমিলা খাতুন আলিম মাদরাসার প্রভাষক মো: জামাল উদ্দিন এবং মরহুমের বড় ছেলে অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান।
দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন ফেনী মডেল দাখিল মাদরাসার সুপার ও ফাউন্ডেশনের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।

এ সময় বায়তুল হক জামে মসজিদের সভাপতি শওকত ইমরান, ফেনী মডেল মাদরাসার সহ-সুপার আজিজুল হকসহ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি দ্বীনের খেদমতে আজীবন কাজ করেছেন, অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং মানুষ তৈরির কারিগর হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তার অগণিত ছাত্র আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠিত।

অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শ


সংবাদ মাধ্যমঃ দৈনিক স্টারলাইন || শহর প্রতিনিধি

ফেনী আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও ফেনী মডেল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মডেল মাদরাসা সংলগ্ন আবু সুফিয়ান জামে মসজিদে ফাউন্ডেশন সভাপতি নাসির উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন ফেনী মডেল মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউছুপ, আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক মানিক,দাগনভূঞা জমিলা খাতুন আলিম মাদরাসার বাংলা প্রভাষক মো: জামাল উদ্দিন ও মরহুমের বড় ছেলে এডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান।

দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন ফেনী মডেল দাখিল মাদরাসার সুপার ও ফাউন্ডেশনের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন। এসময় বায়তুল হক জামে মসজিদের সভাপতি শওকত ইমরান, ফেনী মডেল মাদরাসার সহ-সুপার আজিজুল হক সহ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, “অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শ। মাওলানা আবুল হাশেম দ্বীনের খেদমতে কাজ করে গেছেন। অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। অসংখ্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের খেদমতে ছিলেন। তিনি ছিলেন মানুষ তৈরির কারিগর। আজ সারা পৃথিবীতে তার অগণিত