ফেনীতে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত


সংবাদ মাধ্যমঃ চট্টগ্রাম বার্তা Chattogram Barta || জাহিদ হাসান চৌধুরী, ফেনী জেলা প্রতিনিধি

আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফালাহিয়া মাদরাসা অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফারুক আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দারুল ইসলাম সোসাইটির চেয়ারম্যান ও মাদরাসার ফকিহ মুফতি আব্দুল হান্নান, গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক আবু ইউছুপ, উপাধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক এবং সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক মানিক।

এছাড়া বক্তব্য দেন মরহুমের ছেলে অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান, ফেনী মডেল দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা দেলোয়ার হোসেন এবং রিবাতুল মিল্লাত মাদরাসার চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে নির্লোভ মানসিকতা থাকতে হয়। এ গুণটি মরহুম মাওলানা আবুল হাশেমের মধ্যে ছিল। দুনিয়ার প্রতি তার কোনো মোহ ছিল না। এ কারণেই তিনি সফলভাবে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পেরেছেন। তিনি ছিলেন মানুষ তৈরির কারিগর। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য মানুষ আজ সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, “অধ্যক্ষ আবুল হাশেম ছিলেন একটি জীবন্ত ইতিহাস। তিনি ছিলেন অসাধারণ জ্ঞানী, কিন্তু অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাঁর মধ্যে কোনো লোভ, অহংকার বা আত্মপ্রচার ছিল না। তিনি ছিলেন পরিশ্রমী, ধৈর্যশীল এবং দ্বীনের একনিষ্ঠ খাদেম। শিক্ষা বিস্তার ও দ্বীনি খেদমতে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।”

অধ্যাপক আবু ইউছুপ বলেন, “অধ্যক্ষ আবুল হাশেম ছিলেন আদর্শ মানুষ ও জাতি গড়ার কারিগর। তিনি শুধু একজন আদর্শ শিক্ষকই নন, একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বও ছিলেন। বিপুল জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো অহংকার করেননি। দ্বীনি আন্দোলন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুফতি ফারুক আহমেদ বলেন, “দীর্ঘ প্রায় দশ বছর আমি তাঁর সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ পেয়েছি। এই সময়ে তাঁর চরিত্র, আদর্শ ও কর্মনিষ্ঠাকে কাছ থেকে দেখেছি। তিনি ছিলেন নির্মোহ ও আদর্শ শিক্ষক। প্রায় চার দশক শিক্ষকতা করেও তিনি কখনো সম্পদ অর্জনের চিন্তা করেননি। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অসীম। অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি ছাত্রদের খোঁজখবর নিয়েছেন। তাঁর আদর্শ আমাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে অনুসরণ করা প্রয়োজন।”

আলোচনা সভা শেষে মরহুম মাওলানা আবুল হাশেমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

মূল সংবাদঃ chattogrambartabd.com/2026/06/15/ফেনীতে-অধ্যক্ষ-মাওলানা-আ/

অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের মৃত্যুবার্ষীকিতে স্মরণসভা ও দোয়া

‘অধ্যক্ষ আবুল হাশেম ছিলেন মানুষ তৈরির কারিগর’

আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৫ ই জুন সোমবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ফালাহিয়া মাদরাসা অডিটোরিয়ামে মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদরাসার গভর্নিং বডি সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দারুল ইসলাম সোসাইটির চেয়ারম্যান ও মাদরাসার ফকিহ মুফতি আব্দুল হান্নান,মাদরাসার গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক আবু ইউছুপ,উপাধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক ও সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক মানিক।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মরহুমের ছেলে এডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান, ফেনী মডেল দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ও রিবাতুল মিল্লাত মাদরাসার চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন,“প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য যেটা প্রয়োজন সেটা হলো তাকে নির্লোভ হতে হবে। এটা না হলে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়৷ মরহুম আবুল হাশেম সাহেবের কাছে এ গুনটা ছিল। দুনিয়ার প্রতি তার কোন লোভ ছিল না। এ জন্য তার দ্বারা প্রতিষ্ঠান করা সম্ভব হয়েছে। উক্ষনি ছিলেন মানুষ তৈরি করার কারিগর। উনি মানুষ তৈরি করেছেন।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন,“ অধ্যক্ষ আবুল হাশেম সাহেব একটি জীবন ও একটি ইতিহাস। তিনি এত জ্ঞাণী ছিলেন যে তার সাথে যারা ছিল তারাও সহযে বুঝাতো না। তিনি সাধাসিধে জীবন-যাপন করতেন। আবুল হাশেমের মধ্যে কোন লোভ ছিলো না,তিনি ছিলেন নির্লোভ। তিনি ছিলেন নিরহংকারী,পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল। তিনি দ্বীনের জন্য খেদমত করে গেছেন।শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রেখেছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন দ্বীনের দায়ী ছিলেন।”

অধ্যাপক আবু ইউছুপ বলেন,“অধ্যক্ষ হাবুল হাশেম আদর্শ মানুষ ও জাতি তৈরির কারিগর ছিলেন৷ তিনি আদর্শ শিক্ষক ছিলেন না শুধু, তিনি আদর্শ মানুষও ছিলেন। তিনি অতি জ্ঞাণী ছিলেন। এত জ্ঞান থাকার পরও তিনি ছিলেন সাধারণ। তিনি কখনো অহংকার করতেন না। তিনি সাদাসিধে জীবন-যাপন করতেন। দ্বীনি আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার অনন্য অবদানের জন্য তাকে আমরা আজীবন স্মরণে রাখবো।”

মুফতি ফারুক আহমেদ বলেন,“মাওলানা আবুল হাশেম সাহেবের সাথে দশ বছর কাছাকাছি থেকে উনাকে অনুসরণ করেছি ও দেখেছি। এ দশ বছরে উনার সাথে কখনো মনমালিন্য হয়নি। আবুল হাশেম সাহেব ছিলেন আদর্শ শিক্ষক। আবুল হাশেম সাহেব ছিলেন নির্মোহ শিক্ষক। তিনি ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছেন। তারওরও তার কোন টাকা ছিলো না। টাকার প্রতি তার কোন লোভ ছিল না। তিনি অসুস্থ অবস্থাও ছাত্রদের খোঁজ নিতে চলে গেছেন এমনও আছে। তিনি ছাত্রদের ছাড়ূ কিছু বুঝতেন না। আবুল হাশেম সাহেবের যে অনুকরণীয় আদর্শ তা আমাদেরও মেনে চলতে হবে।”

অনুষ্ঠানে মরহুম অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.)-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান বলেন,

“অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.) ফালাহিয়া মাদ্রাসাকে কখনো একটি কর্মস্থল হিসেবে দেখেননি; তিনি এটিকে নিজের পরিবার বলে মনে করতেন। অনেক সময় তিনি নিজের পরিবারের চেয়েও বেশি সময় এই প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় করেছেন। এই মাদ্রাসার উন্নয়ন, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ এবং দ্বীনি শিক্ষার বিকাশ ছিল তাঁর জীবনের প্রধান ভাবনা ও সাধনা।

তাঁর চরিত্রের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বৈষয়িক মোহ থেকে সম্পূর্ণ নির্মোহ থাকা। তিনি কখনো ভোগবাদী কিংবা পুঁজিবাদী জীবনদর্শন লালন করেননি। ব্যক্তিগত প্রাপ্তি, আর্থিক সচ্ছলতা বা পার্থিব স্বার্থ তাঁর জীবনের চালিকাশক্তি ছিল না; বরং তাঁর প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল ইলমের বিকাশ, দীনের খেদমত এবং মানুষ গঠন।

ইসলামী ঐতিহ্যে ইলমকে কেবল তথ্যগত জ্ঞান হিসেবে দেখা হয় না; বরং এমন এক নূর হিসেবে দেখা হয়, যার প্রতিফলন মানুষের চরিত্র, আমল ও জীবনাচরণে প্রকাশ পায়। একজন আলেম যদি পার্থিব লোভ-লালসা ও ভোগবাদে নিমজ্জিত হয়ে পড়েন, তাহলে ইলমের সেই নূর তার জীবন ও কর্মে পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হতে পারে না। ভোগবাদী জীবনদর্শন ও ইলমের আমানত একই সঙ্গে বহন করা অত্যন্ত কঠিন।

অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.)-এর স্বাতন্ত্র্য এখানেই যে, তিনি তাঁর জীবনাচরণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন—একজন আলেমের প্রকৃত মর্যাদা তাঁর বৈষয়িক অর্জনে নয়; বরং তাঁর ইখলাস, আত্মনিবেদন এবং দীনের জন্য ত্যাগের মধ্যে নিহিত। এই নির্মোহতা, এই ইলমপ্রেম এবং আদর্শিক নিষ্ঠাই তাঁকে সমকালীন অনেক আলেমের তুলনায় একটি স্বতন্ত্র ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

ফেনী আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাসেম রহ। এর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত


সংবাদ মাধ্যমঃ ফেনীর প্রান্তর

মাওলানা আবুল হাশেমের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা, তুলে ধরা হলো শিক্ষা ও মানবসেবায় তাঁর অবদান

শহর প্রতিনিধি: আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক মরহুম মাওলানা আবুল হাশেমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁর শিক্ষা বিস্তার, প্রতিষ্ঠান গঠন এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নেতৃত্বের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

সোমবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফালাহিয়া মাদরাসা অডিটোরিয়ামে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দারুল ইসলাম সোসাইটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা আমির মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান, গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক আবু ইউসুফ এবং সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক মানিক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন এবং রিবাতুল মিল্লাত মাদরাসার চেয়ারম্যান মাওলানা সাইফুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, দক্ষ সংগঠক ও আদর্শবান মানুষ। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাদাসিধে হলেও শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। তিনি নীরবে-নিভৃতে মানুষ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

অধ্যাপক আবু ইউসুফ বলেন, “মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক ও আদর্শ সংগঠক। নিরহংকারী ও ঈমানদার এ মানুষটি নিঃস্বার্থভাবে জাতি গঠনের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।”

মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, “তিনি অত্যন্ত অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।”

প্রধান অতিথি অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, “প্রতিষ্ঠান গড়তে হলে ত্যাগ ও নির্লোভ মানসিকতার প্রয়োজন হয়। মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন সেই গুণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি নিজের জন্য নয়, সমাজ ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন নিরহংকার, পরোপকারী ও বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষ।”

স্মরণসভা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মূল সংবাদঃ https://www.facebook.com/share/p/1EN92n9QSe/

স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

বরেণ্য শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন এবং আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া (কামিল) মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ

মাওলানা আবুল হাশেম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর

১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে

স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

স্থান: ফালাহিয়া মিলনায়তন

তারিখ: ১৫ জুন ২০২৬,

সময়: দুপুর ১২টা

আয়োজনে: অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশন

অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের মৃত্যুবার্ষীকিতে স্মরণসভা ও দোয়া



অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেমের মৃত্যুবার্ষীকিতে স্মরণসভা ও দোয়া

‘অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শ’

বরেণ্য শিক্ষাবীদ, ফেনী আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও ফেনী মডেল (দাখিল) মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, মাওলানা আবুল হাশেম (রাহিঃ) ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৪ জুন রবিবার দুপুরে অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে, মডেল মাদরাসা সংলগ্ন আবু সুফিয়ান জামে মসজিদে, ফাউন্ডেশন সভাপতি অধ্যাপক নাসির উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে, অতিথি ছিলেন ফেনী মডেল মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউছুপ, আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক মানিক,দাগনভূঞা জমিলা খাতুন আলিম মাদরাসার বাংলা প্রভাষক মো: জামাল উদ্দিন ও মরহুমের বড় ছেলে এডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান। দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন ফেনী মডেল দাখিল মাদরাসার সুপার ও ফাউন্ডেশনের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।

স্বাগত বক্তব্যে ফেনী মডেল (দাখিল) মাদ্রাসার সুপার মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন বলেন,

“অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.) আমাদের কাছে শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না; তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক, পথপ্রদর্শক এবং মানুষ গড়ার কারিগর। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেবল পাঠদানের কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং আদর্শ, চরিত্র ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, নিষ্ঠা এবং আদর্শিক প্রেরণার ফলেই আজ ফেনী মডেল (দাখিল) মাদ্রাসা ফেনীর অন্যতম সুনামধন্য ও আস্থাভাজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ ও শিক্ষা আমাদের জন্য আজও প্রেরণার উৎস এবং আগামী পথচলার পাথেয়।”

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে জনাব আবু বকর সিদ্দিক মানিক বলেন,

“অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.) আমাদের সহকর্মী ছিলেন, আমাদের প্রশাসনিক প্রধানও ছিলেন; কিন্তু তাঁর আচরণে কখনো ঊর্ধ্বতন-অধস্তনের দূরত্ব ছিল না। তিনি আমাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশেছেন, অভিভাবকের মতো পথ দেখিয়েছেন এবং সহযোদ্ধার মতো কাজ করেছেন।

তাঁর জীবনের সবচেয়ে অনুকরণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ানুবর্তিতা। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের ভিত্তি গড়ে ওঠে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের উপর। তাঁর নিজের জীবনই ছিল এর সর্বোত্তম উদাহরণ। তিনি সর্বদা মাদ্রাসায় সবার আগে উপস্থিত হতেন এবং সবার শেষে প্রস্থান করতেন।

অধ্যক্ষ আবুল হাশেম (রহ.)-এর জীবনের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল যথাসময়ে পাঠদান নিশ্চিত করা। তাঁর দায়িত্বকালে মাদ্রাসার কোনো শ্রেণিকক্ষ শিক্ষকবিহীন থাকত না। কোনো কারণে কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে, তিনি নিজেই সেই শ্রেণিতে পাঠদান করতেন, সেটি যে শ্রেণিরই হোক না কেন। কারণ তিনি মনে করতেন, শিক্ষা একটি আমানত এবং শিক্ষার্থীর একটি ক্লাসও নষ্ট হওয়ার অধিকার কারও নেই।

তাঁর ইখলাস, দীনের প্রতি আত্মনিবেদন এবং কর্মনিষ্ঠা আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে কখনো অহংকারকে স্থান দেননি। যেকোনো ব্যক্তি, যেকোনো পরিবেশ এবং যেকোনো কাজ থেকে নতুন কিছু শেখার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আগ্রহী। একইভাবে তিনি নিজেও অন্যদের কিছু শেখাতে কখনো কার্পণ্য করতেন না।

তিনি ছিলেন ভ্রমণপিপাসু একজন মানুষ। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে তিনি ছুটে গেছেন জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং নতুন ধারণার সন্ধানে। তাঁর সদাচরণ, শৃঙ্খলাবোধ, কর্মপ্রাণতা এবং দায়িত্বনিষ্ঠা আজকের প্রজন্মের জন্য এক মূল্যবান শিক্ষার উৎস।

প্রকৃতপক্ষে, তিনি যে প্রতিষ্ঠানেই হাত দিয়েছেন, নিষ্ঠা, শ্রম ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে সেই প্রতিষ্ঠানকে সাফল্য ও মর্যাদার নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি সারাজীবন দীনের পথে, ইলমের খেদমতে এবং মানুষ গড়ার সংগ্রামে একজন নিরলস মুজাহিদ হিসেবে কাজ করে গেছেন।”

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে জনাব আবু ইউসুফ বলেন,

“অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.) ছিলেন ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্রের একজন আলেম। তিনি কেবল একজন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক বা প্রশাসক ছিলেন না; বরং ইলমের প্রতি নিবেদন, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন। তিনি হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর সরাসরি ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর সোহবত ও আধ্যাত্মিক প্রভাব তাঁর সমগ্র জীবন ও চিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর সান্নিধ্যে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, ইলম কেবল অর্জনের বিষয় নয়; ইলম হলো আমানত, দায়বদ্ধতা এবং উম্মাহর কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার এক পবিত্র দায়িত্ব। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি সারাজীবন ইলমের পথে, দীনের খেদমতে এবং শিক্ষার প্রসার ও বিকাশে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।

অন্য অনেক আলেমের সঙ্গে তাঁর একটি মৌলিক পার্থক্য ছিল—তিনি কখনোই ব্যক্তিগত বা বৈষয়িক কোনো চাওয়া-পাওয়াকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দেননি। পদ, প্রতিপত্তি কিংবা পার্থিব সুবিধা তাঁর কর্মপ্রেরণার উৎস ছিল না। তাঁর প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, ইলমের বিকাশ এবং এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা জ্ঞান, আমল ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হবে।

বস্তুত, তিনি নিজের জন্য নয়, ইলমের জন্য বেঁচেছিলেন; ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয়, বরং দীনের খেদমত ও মানুষ গঠনের বৃহত্তর স্বপ্নের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর এই ইখলাস, ইলমপ্রেম এবং আত্মনিবেদিত জীবন আমাদের জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক মূল্যবান প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

মরহুমের জ্যেষ্ঠ পুত্র অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ নোমান বলেন,

“আজকের দিনটি আমার জন্য একই সঙ্গে বেদনা ও আনন্দের। বেদনার, কারণ আজ থেকে তেরো বছর আগে যেদিন আমার বাবা অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.) ইন্তেকাল করেন, সেদিন আমি ফ্যাসিবাদী শাসকের দায়ের করা একটি মিথ্যা মামলায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলাম। ফলে জীবনের অন্যতম বেদনাদায়ক বাস্তবতা হলো, আমি আমার পিতার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি। এই বেদনা একজন সন্তানের হৃদয়ে আজও গভীরভাবে অনুরণিত হয়।

তবে আজকের দিনে আমার আনন্দেরও একটি কারণ আছে। দীর্ঘ এক যুগ পর হলেও অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.)-কে স্মরণ করা, তাঁর জীবন, কর্ম ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং আশাব্যঞ্জক।

মরহুমের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি ছিল শিক্ষক ও ছাত্রের মধ্যে একটি রুহানী ও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়াস। তাঁর কাছে শিক্ষা কেবল পাঠদান ছিল না; ছিল মানুষ গঠন, হৃদয়ের পরিশুদ্ধি এবং নৈতিক ব্যক্তিত্ব নির্মাণের একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন শিক্ষক কেবল জ্ঞান প্রদান করেন না; তিনি একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, চরিত্র ও জীবনদর্শন নির্মাণেও গভীর ভূমিকা পালন করেন।

ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালী (রহ.) তাঁর *ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন*-এ শিক্ষককে মানুষের আত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পিতা মানুষের দুনিয়াবি অস্তিত্বের কারণ, কিন্তু শিক্ষক ও মুরাব্বি মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পথ দেখান। আমার পিতা ছিলেন তেমনি একজন শিক্ষক, যিনি তাঁর ছাত্রদের সঙ্গে কেবল শ্রেণিকক্ষের সম্পর্ক গড়ে তোলেননি; বরং তাঁদের হৃদয়ের সঙ্গে এক আত্মিক বন্ধন নির্মাণ করেছিলেন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

**«اذكروا محاسن موتاكم»**

“তোমরা তোমাদের মৃতদের ভালো দিকগুলো স্মরণ করো।”

এই নববী নির্দেশনার আলোকে আমরা আজ অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.)-এর জীবনকে স্মরণ করছি। আমাদের উদ্দেশ্য কেবল একজন ব্যক্তিকে স্মরণ করা নয়; বরং তাঁর ইখলাস, তাঁর জ্ঞানপ্রেম, তাঁর আত্মনিবেদন এবং মানুষ গড়ার স্বপ্নকে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করা।

আমরা চাই, আগামী প্রজন্ম তাঁর জীবন থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করুক যে, পার্থিব অর্জনের চেয়ে বড় হলো আদর্শ; ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে বড় হলো মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা; আর পৃথিবীর প্রতি নির্মোহ থেকে ইলম ও দীনের খেদমতে আত্মনিয়োগ করাই একজন মুমিনের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধনা।

আমরা এই স্মরণ-উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন মরহুমকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন এবং তাঁর রেখে যাওয়া ইলম, আদর্শ ও সৎকর্মগুলোকে তাঁর জন্য সদকায়ে জারিয়ায় পরিণত করেন।”

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে প্রফেসর মোহাম্মদ জামালুদ্দিন বলেন,

“মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.) তাঁর সমগ্র জীবন দীনের খেদমতে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি অসংখ্য দ্বীনি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন, আবার অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের বিকাশ, পরিচালনা ও কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। যেখানে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, সেখানেই নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও আত্মনিবেদনের ছাপ রেখেছেন।

তিনি শুধু আমাদের শিক্ষকই ছিলেন না; তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক, পথপ্রদর্শক এবং নৈতিক আশ্রয়স্থল। তাঁর স্নেহ, আন্তরিকতা এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম মমত্ব আজও আমরা গভীরভাবে অনুভব করি। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে দায়িত্ববোধ, ইখলাস এবং দীনের প্রতি ভালোবাসাকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিতে হয়।

তাঁর মতো মানুষ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর আদর্শ, তাঁর শিক্ষা এবং তাঁর স্নেহময় ব্যক্তিত্ব আমাদের চিন্তা ও কর্মে আজও জীবন্ত। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে সবসময় তাঁর জন্য দোয়া করি—আল্লাহ তাআলা যেন তাঁর খেদমতসমূহ কবুল করেন, তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করেন।”

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নাসিরুদ্দিন সরকার বলেন,

“অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.) এমন এক শিক্ষাদর্শনে বিশ্বাস করতেন, যেখানে মাদ্রাসা কেবল ধর্মীয় শিক্ষাদানের প্রতিষ্ঠান নয়; বরং জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির এক উর্বর পাঠশালা। তিনি সবসময় স্বপ্ন দেখতেন যে, মাদ্রাসার ছাত্ররাই একদিন জ্ঞান, যোগ্যতা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। ইনশাআল্লাহ, সেই স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নেবে।

তিনি আমাদের বারবার অনুপ্রাণিত করতেন এই বলে যে, ‘তোমরা শুধু মাদ্রাসার শিক্ষক হয়ে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে না; তোমরা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে যাবে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করবে, বিভিন্ন পেশায় নেতৃত্ব দেবে এবং সমাজের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে সেখান থেকেও দীনের খেদমত করবে।’

অধ্যক্ষ আবুল হাশেম (রহ.)-এর এই দূরদর্শী চিন্তা ও অনুপ্রেরণার বাস্তব প্রতিফলন আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, তাঁর ছাত্রদের মধ্যে আজ ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, প্রশাসনিক ক্যাডারের সদস্য, আইনজীবী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন পেশার অসংখ্য কৃতী ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। আমাদের অনেকের জীবনপথ ও আত্মবিশ্বাস গঠনের পেছনে তাঁর উৎসাহ, প্রেরণা এবং সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

আমরা আজ যে সামান্য অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছি, তার পেছনে আমাদের প্রিয় উস্তাদের শিক্ষা, স্নেহ এবং অনুপ্রেরণার বড় অবদান রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাঁর আদর্শ, তাঁর শিক্ষা-দর্শন এবং মানুষ গড়ার যে অসমাপ্ত স্বপ্ন তিনি রেখে গেছেন, আমরা তা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব, ইনশাআল্লাহ।”

এসময় বায়তুল হক জামে মসজিদের সভাপতি শওকত ইমরান, ফেনী মডেল মাদরাসার সহ-সুপার আজিজুল হক সহ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক কমিটির এক বিশেষ সভা

৫ জুন ২০২৬, শুক্রবার, অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক কমিটির এক বিশেষ সভা ফেনীর টাইমপাস রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, মাওলানা আবুল হাশেম (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন যুগশ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন এবং ইলমে দ্বীনের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্ব। তাঁকে স্মরণ রাখা, তাঁর আদর্শকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া এবং আদর্শ মানুষ গঠনে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে এ লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নাসির উদ্দিন সরকারকে ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক এবং হাফেজ মুহাম্মদ জহির উদ্দিনকে সদস্য সচিব মনোনীত করা হয়।

এছাড়া, আগামী ১৫ জুন মরহুমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একইসঙ্গে ১৯ জুন মরহুমের নিজ গ্রামে দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারতের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

পরিশেষে, সকলের অংশগ্রহণে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অধ্যক্ষ আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের প্রধান পরিচালক নির্বাচন এবং স্থায়ী নির্বাহী কমিটি গঠন

অত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কমিটির সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ০৫/০৬/২০২৬ইং রোজ শুক্রবার, কমিটির একটি বিশেষ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

আলোচ্য বিষয়সমুহঃ
১. অধ্যক্ষ আবুল হাশেম ফাউন্ডেশনের প্রধান পরিচালক নির্বাচন এবং স্থায়ী নির্বাহী কমিটি গঠন।
২. আগামী ১৫ জুন অধ্যক্ষ আবুল হাশেম (রহ.)- এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি কর্মসূচির আয়োজন

স্থানঃ হোটেল টাইম পাস
সময়ঃ ০৭:০০

উক্ত সভায় কমিটির সখল সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

ধন্যবাদান্তে,
হাফেজ মুহাম্মদ জহির উদ্দিন।