অমূল্য লেখনী

অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাশেম (রহ.) তাঁর সুদীর্ঘ জীবনব্যাপী সাধনায় তিনি ইসলাম, সমাজ ও মানবতা নিয়ে অসংখ্য মূল্যবান গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর এই রচনাসমগ্র কেবল ইসলামী দর্শনের গভীরতাকেই তুলে ধরে না, বরং সমকালীন সমাজ ব্যবস্থায় এর প্রাসঙ্গিকতাও নির্দেশ করে। এখানে তাঁর নির্বাচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনার আর্কাইভ উপস্থাপন করা হলো।

যাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ

প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় কিছু লোকের ঘাম ঝরানো ও নিঃস্বার্থ ত্যাগ কোরবানীর ইতিহাস থাকে। আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া (কামিল) মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনায় যারা নিঃস্বার্থ ত্যাগ কোরবানীর নজরানা পেশ করে গেছেন অব্যাহতভাবে একান্ত মনের টানে; তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গত দু'বছরের ব্যবধানে আমরা হারিয়েছি। ফালাহিয়ায় যখন আমি যোগদান করি তখন ইহা একটি দাখিল মাদরাসা ছিল।

সামাজিক চাহিদা পূরণে মাদ্রাসা শিক্ষা

সমাজে খোদাভীরু, যোগ্য ও আদর্শ মানুষ গড়ার উদ্দেশ্যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) যে মহান শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করে গেছেন, উহাই “মাদ্রাসা শিক্ষা” নামে পরিচিত। প্রাচীন মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত জ্ঞানী-গুণীদের চারিত্রিক ও আদর্শিক গুণাবলীতে আকৃষ্ট হয়ে, বর্তমান যুগেও মাদ্রাসায় শিক্ষিতরা ইসলামের প্রচার ও প্রসারের সাথে সাথে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখে; দেশের সামাজিক চাহিদা পূরণে যাতে উপযুক্ত ভূমিকা রাখতে পারেন, সে জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বিত পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিতরা আজ ডিগ্রী নিয়ে শুধু মাদ্রাসায় শিক্ষকতা বা মসজিদের ইমামতির দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নন। দেশের আর্থ-সামাজিক চাহিদা পূরণে এবং রাজনৈতিক ও আর্থনৈতিক অঙ্গনেও নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যোগ্যতা ও সততার সহিত পালন করছেন। সরকার একটু আন্তরিক হলে, মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষার্থীগণ আরো অধিক হারে যোগ্যতা ও সততার পরিচয় দিতে পারেন। এ বিষয় পর্যালোচনার উদ্দেশ্যেই এ নিবন্ধের অবতারণা।