বুকের ভেতর আস্ত একটা আকাশ রেখে
হেঁটে গেছেন অবলীলায় তিনি সংকীর্ণ সব অলি-গলি
কেউ তাঁকে থামাতে পারেনি তাঁর গন্তব্য থেকে
রাস্তার কুকুর, বিষধর সাপের ফনা এবং হায়নার চিৎকার! কেউ না…
তিনি হেঁটে গেছেন বিস্তির্ন জনপদ
আর মুমুর্ষ জ্ঞান-বৃক্ষের শেকড়ে ঢেলে দিলেন সঞ্জীবনী জল
অনুর্বর পরিত্যাক্ত জমিতে বুনে দিলেন ইলেমের বীজ
সেইসব চারা থেকে বেরিয়ে এলো যেন আল্লাহর পবিত্র নুরের ছটা
যা ছড়িয়ে গেল পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত!
কখনও তাঁকে মনেহত তিনি শাহ জালালদের উত্তরসূরী
কখনও জ্ঞান-সাধক শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী
কখনও তিনি আল্লাহর পয়গম্বরদের একনিষ্ঠ অনুসারী
যাদের পদচারনায় ভেঙ্গে যায় পৌত্তলিকতার মুর্তি
এবং জাহেলিয়াতের পর্দা ছিঁড়ে নেমে আসে ঐশী আলো
যা কিনা অন্ধকার সমাজকে করে দেয় সুনসান পবিত্র এবং জমকালো।
কোন প্রসংশা ও স্তুতি গাঁথার অপেক্ষা ছিল না তাঁর
দুনিয়ার তুচ্ছ স্বীকৃতির দিকে তাকাবার সময় ছিল না
বৈষয়িক প্রাচুর্য্যের লোভ তিনি অগ্রাহ্য করে গেছেন তর্জনী উঁচিয়ে
তাঁর এই সাহসের মহীরুহ এত সুবিশাল যে, তা বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়
খোলাফায়ে রাশেদার সোনালী মানুষদের পদচিহ্ন!
তিনি বহুকাল জ্ঞান-বৃক্ষের নিচে ধ্যানমগ্ন ছিলেন
কতটা বিস্তৃত হলো বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা?
কতটা গভীর হলো শেকড়ের কান্ড? এসব ভাবতে-ভাবতে
একদিন আল্লাহ’ র কাছে চলে গেলেন তিনি!
রূহের জগতে বসে মনে হয় এখনও তাকিয়ে আছেন
তাঁর রেখে যাওয়া বৃক্ষগুলোর দিকে
বৃক্ষের নিচে দাঁড়ালেই টের পাওয়া যায় তাঁর অবিশ্রান্ত উপস্থিতি!
আবৃত্তিঃ https://youtu.be/tT1NPS72B3M?si=SHM9zZ3ZtzLD7VQC